শিশুর আচরণ উন্নয়নে অভিভাবকের ভূমিকা
শিশুদের আচরণ পরিবর্তন
বাবা-মা ও শিক্ষকদের জন্য একটি সহায়ক গাইড
ভূমিকা
শিশুরা ধীরে ধীরে শেখে কীভাবে নিজের অনুভূতি বুঝতে হয়, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং সমাজে সঠিকভাবে চলতে হয়। কোনো শিশু ভুল আচরণ করলে সেটি তার ব্যর্থতা নয়, বরং শেখার একটি সুযোগ।
শিশুদের আচরণ বোঝা কেন জরুরি
প্রতিটি আচরণের পেছনে একটি কারণ থাকে। শিশু ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত, ভীত বা অবহেলিত বোধ করলে তার আচরণে তা প্রকাশ পায়। অনেক সময় তারা নিজের অনুভূতি শব্দে প্রকাশ করতে পারে না।
“শিশুটি কেন দুষ্টুমি করছে?” এর বদলে ভাবুন — “শিশুটি কী বোঝাতে চাইছে?”
শিশুদের সাধারণ আচরণগত সমস্যা
- রাগ করা ও ঘন ঘন কান্না
- কথা না শোনা
- ভাই-বোন বা বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া
- মিথ্যা বলা বা ভুল লুকানো
- ভয়, উদ্বেগ বা নিজেকে গুটিয়ে রাখা
আচরণ পরিবর্তনের ইতিবাচক উপায়
১. নিজেই আদর্শ হোন
শিশুরা বড়দের অনুকরণ করে। আপনি শান্ত ও ভদ্র হলে শিশুও তা শেখে।
২. ইতিবাচক ভাষা ব্যবহার করুন
“চিৎকার করো না” বলার বদলে বলুন, “আস্তে কথা বলো।”
৩. স্পষ্ট ও সহজ নিয়ম তৈরি করুন
নিয়ম কম রাখুন, কিন্তু পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিন।
৪. ভালো আচরণের প্রশংসা করুন
“ভালো করেছ”, “আমি তোমার উপর গর্বিত” — এই কথাগুলো শিশুকে উৎসাহ দেয়।
৫. শাস্তি নয়, অনুভূতি শেখান
শিশুর অনুভূতির নাম বলতে শেখান, যেমন — “তুমি রেগে আছো বুঝতে পারছি।”
৬. ভয় নয়, কাজের ফল শেখান
শাস্তির বদলে আচরণের ফল বোঝান। এতে দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।
ধৈর্যের গুরুত্ব
আচরণ পরিবর্তন একদিনে হয় না। ধৈর্য, ভালোবাসা ও ধারাবাহিকতা দরকার। চিৎকার সাময়িক কাজ করলেও দীর্ঘমেয়াদে উপকার করে না।
বাবা-মা ও শিক্ষকের ভূমিকা
বাড়ি ও স্কুলে একই নিয়ম থাকলে শিশু বেশি নিরাপদ বোধ করে। পারস্পরিক যোগাযোগ আচরণ উন্নত করতে সাহায্য করে।
উপসংহার
প্রতিটি শিশু আলাদা। ভালোবাসা, বোঝাপড়া ও ধৈর্যই হলো সফল আচরণ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। ভয় দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে শিশুদের পথ দেখান।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন